ত্বকের সুরক্ষায় গ্রীণ টি ফেস স্ক্রাব

আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গ্রীণ টির প্রচুর অবদান আছে। গ্রীণ টি রক্তে কোলেস্টেরল এর মাত্রা কম করতে সাহায্য করে। রক্তের ইনসুলিনের হার কমিয়ে দেয়। গ্রীণ টি আমাদের মেদের মেদ সহ সমস্ত শরীরের ওজন ঝড়িয়ে ফেলতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়। নিয়মিত সকালে খালি পেটে গ্রীণ টি পান করলে তা আমাদের শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। এজন্য স্বাস্থ্য সুরিক্ষায় গ্রীণ টিকে ওয়ান্ডার ড্রিঙ্ক বলা হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন ত্বকের সুরক্ষায়ও গ্রীণ টির অসাধারণ ভূমিকা আছে বিশেষ করে স্ক্রাব হিসেবে গ্রীণ টির কোন জুড়ি নেই। আজ আমি এজন্য একটা গ্রীণ টি ফেস স্ক্রাব নিয়ে আলোচনা করব।

মাত্র তিনটি উপকরণ দিয়ে আপনি এই অসাধারণ ফেস স্ক্রাবটি বাসায় বসেই বানাতে পারবেন। এই উপকরণ গুলো খুবই সহজলভ্য, প্রায় সব সময়ই আমাদের ঘরে এই তিনটি উপকরণ থাকে। আর সবচেয়ে সুবিধার ব্যাপার হল এই সব কয়টি উপকরণই যথেষ্ঠ সস্তা। কোন নামী দামী ব্রান্ডের স্ক্রাব কিনতে গেলে দোকানে আপনাকে অনেক গুলো টাকা গুণতে হবে। আবার এত টাকা দিয়ে ফেস স্কারব কিনে সেটা আসল নাকি ভেজাল সেই ব্যাপারে কোন গ্যারান্টিও পাওয়া যাবে না। আর আমরা সবাই জানি নকল প্রসাধনী সামগ্রী আমাদের ত্বকের কতটা ক্ষতি করতে পারে। এজন্যই আসুন এসন বাজার থেকে কেনা ফেস স্ক্রাব ব্যবহার না করে এখন থেকে প্রাকৃতিক বিভিন্ন ফেস স্ক্রাব ত্বকে ব্যবহার করি।

গ্রীণ টি ফেস স্ক্রাব ব্যবহার করার কিছু নিয়ম কানুন আছে। এই স্ক্রাবটি ব্যবহার করার সময় এই নিয়ম কানুন গুলো মেনে চললে আপনি ত্বকের সুরক্ষায় দারুণ ফল পাবেন। আসু দেরি না করে গ্রীণ টি ফেস স্ক্রাব কিভাবে বানাতে হয় এবং ব্যবহার করতে হয় তা দেখে নেই। তবে তার আগে চলুন জেনে নেই এই গ্রীণ টি ফেস স্ক্রাব বানাতে কি কি উপকরণ কতটুকু পরিমাণে লাগবে।

গ্রীণ টি ফেস স্ক্রাব বানাতে যা যা লাগবে

  • গ্রীণ টি ব্যাগ ১টি
  • টকদই ১ টেবিল চামচ
  • খাটি হলুদ গুড়া ১ চিমটি

গ্রীণ টি ফেস স্ক্রাব যেভাবে বানাবেন

প্রথমে গ্রীণ টি ব্যাগটি ব্যবহার করে নিন। তার মানে প্রথমে এক কাপ গরম পানিতে গ্রীণ টি ব্যাগ দুই থেকে তিন মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ব্যাগটি গরম পানি থেকে তুলে একটা পাত্রে রেখে দিন ঠান্ডা হবার জন্য এক থেকে দেড় ঘন্টা পর গ্রীণ টি ব্যাগটি ঠান্ডা হয়ে যাবে। আপনি যদি দ্রুত কাজটি করতে চান তাহলে ব্যবহৃত গ্রীণ টি ব্যাগটি ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। তাহলে আধা ঘন্টার মধ্যে গ্রীণ টি ব্যাগটি ঠান্ডা হয়ে যাবে। এরপর গ্রীণ টি ব্যাগের প্যাকেটটা ছিড়ে ভিতর থেকে ভেজা চা পাতা গুলা বের করে একটা পাত্রে রেখে দিন। আপনি লুজ গ্রীণ টি এর পাতাও ব্যবহার করতে পারেন। সেক্ষেত্রেও একই ভাবে দুই থেকে তিন মিনিট ফুটন্ত গরম পানিতে এক চা চামচ গ্রীণ টি ভিজিয়ে রাখুন। তারপর একটা পরিস্কার ছাকনীতে এই গ্রীণ টি ছেকে নিন। এরপর একই ভাবে ফ্রিজ রেখে গ্রীণ টি পাতা ঠান্ডা করে নিন।

এবার একটা বাটিতে গ্রীণ টির পাতা, টকদই আর হলুদ গুড়া নিয়ে নিন। ভাল করে চামচ দিয়ে নেড়ে সব কয়টি উপকরণ এক সাথে মিশিয়ে নিন। আপনার গ্রীণ টি স্ক্রাব রেডি।

গ্রীণ টি স্ক্রাব ব্যবহার করার নিয়ম

যেকোন স্ক্রাব ব্যবহার করার পূর্বে সঠিক ভাবে ক্লিনজিং করে নেয়াটা খুবই জরুরী একটা স্টেপ। এজন্য এই ফেস স্ক্রাবটি ব্যবহার করার পূর্বে প্রথমে আপনার মুখ ও গলা খুব ভাল ভাবে ফেস ওয়াশ দিয়ে পরিস্কার করে নিন। এরপর একটা পরিস্কার তোয়ালে নিয়ে মুখ হালকা করে চেপে চেপে শুকিয়ে নিন। একটা বিষয় সব সময় খেয়াল রাখবেন মুখ পরিস্কার করার আগে। সেটা হচ্ছে কোন কাপড় কিংবা তোয়ালে দিয়ে মুখ কখনোই ঘষে ঘষে পরিস্কার করবেন না। এতে করে আপনার ত্বক রুক্ষ হয়ে যাবে এবং ত্বকের বলিরেখার আগমন ত্বরান্বিত হবে।

মুখ ও গলা ধুয়ে শুকনো হয়ে গেলে আপ্পনার দুই হাতেই অল্প অল্প করে এই গ্রীণ টি ফেস স্ক্রাব নিন। আর আস্তে আস্তে মুখে ও গলায় সার্কুলার মুভমেন্টে ম্যাসাজ করতে থাকুন। প্রায় পাঁচ মিনিট মত এই ভাবে ম্যাসাজ করতে হবে। বেশি ভাল ফল পাওয়ার লোভে পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে কখনোই মুখে কোন প্রকার স্ক্রাব ম্যাসাজ করা উচিত না। এতে করে ত্বকের উপরিভাগের লেয়ার মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ পরিস্কার করে ফেলুন। আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন যে আপনার ত্বকের উপর থেকে ডেড সেলস এর পরত একেবারেই নাই হয়ে গেছে। সপ্তাহে দুই দিন এই ফেস স্ক্রাব দিয়ে নিজের মুখ ও গলায় স্ক্রাব করুন।

ত্বকের যত্নে গ্রীণ টি ফেস প্যাকটি ব্যবহারের উপকারিতা

ত্বকের যত্নে গ্রিণ টির উপকারিতা

প্রথমত গ্রিন তীড় ডাণাডাড় তেক্সচাড় একে শকড়াবীঞ এজেণত হীশে একেবারে পারফেক্ট করে তোলে। এছাড়াও গ্রিণ টি হচ্ছে এন্টি এজিং প্রপ্পার্টি সমৃদ্ধ দারুণ একটি প্রাকৃতিক এন্টি অক্সিডেন্ট। গ্রীণ টি আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে, সান ড্যামেজ থেকে তৈরী হওয়া দাগ আর ব্লেমিশ দূর করতে সাহায্য করে, আবার ত্বকের ডালনেসও কমিয়ে আনে। শুধু তাই নয়। গ্রিণ টির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে এন্টি ইনফ্লেমেটরি প্রপার্টিজ থাকায় এটি ত্বকে নতুন করে কোন ব্রণ বা একনে সৃষ্টি হতে দেয় না। সেই সাথে পুরোনো একনে আর ব্রণের দাগও আস্তে আস্তে হাওকা করে দিতে থাকে।

ত্বকের যত্নে টকদই এর উপকারিতা

টকদই তে আছে ল্যাকটিক এসিড। এই ল্যাকটিক এসিড ন্যাচারাল ব্লিচ হিসেবে কাজ করে। ফলে নিয়মিত টকদই ফেস স্ক্রাবের সাথে বয়বহার করলে ত্বকের রঙ আর্টিফিশিয়াল ব্লিচের মতই আস্তে আস্তে হালকা হতে শুরু করে। শুধু কি তাই? টকদই খুব ভাল প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবেও কাজ করে। এটি ত্বকের একদম গভীর থেকে ময়লা আর জীবাণু পরিস্কার করে ফেলে। ফলে ত্বক আরো উজ্জ্বল ও ফর্সা হয়ে উঠতে থাকে।

ত্বকের যত্নে খাটি হলুদ গুড়ার উপকারিতা

হলুদও এক ধরণের প্রাকৃতিক ব্লিচ যা আস্তে আস্তে ত্বকের রঙ হালকা করতে সাহায্য করে। সেই সাথে ত্বকের জ্বালা পোড়া কিংবা ক্ষত সারাতে হলুদের ব্যবহার তো বহু প্রাচীন কাল থেকে আমাদের নানি দাদিরা করে আসছেন। এছাড়াও হলুদ আমাদের ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে রেখে তৈলাক্ত ত্বককে ফ্রেশ দেখাতেও সাহায্য করে।

Written By
More from Health Aide

Expected Date of Delivery (EDD)

Expected Date of Delivery (estimated due date) (EDD) or simply due date, is a...
Read More