সুন্দর ত্বক পেতে টমেটো

কেমন আছেন সবাই? আবার এসে পড়লাম ত্বকের যত্নের আরেকটি উপকরণ নিয়ে। কি সেটা?- ‘টমেটো’। তো চলুন, লেখা সামনে আগানো যাক সেই প্রিয় “ত্বকের যত্ন নিন” গানটা শুনতে শুনতে!

ওয়েল, শরীরকে ঠিক রাখতে টমেটোর যে কোনও বিকল্প নেই , সে কথা তো সবারই জানা আছে। কিন্তু একথা কি জানেন, ত্বকের উন্নতি ঘটানোর মধ্য দিয়ে সার্বিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেও এই সবজিটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

তাইতো বন্ধু অল্প দিনেই যদি অপরূপ সুন্দরী হয়ে উঠতে চান, তাহলে প্রতিদিন টমাটোর রস মুখে লাগাতে ভুলবেন না যেন!

একটু বেশিই লেইম হয়ে গেলো লাইন-টা, তাই না? হাহা! আমার দৃষ্টিতে প্রত্যেকটা মানুষই সুন্দর। আর সেই সৌন্দর্যটাকে পরিচর্যা করতে হয় খুব করে, হোক তা মনের কিংবা ত্বকের!

তবে, ত্বক সুন্দর ও মসৃণ করতে আসলেই টমেটোর জুড়ি নেই। আর যদি কাঁচা টমেটো খেতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই! আসলে টমেটোতে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান একদিকে যেমন স্কিন-এর পুষ্টির ঘাটতি দূর করে, তেমনি কোলাজেন-এর উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। সেই কারণেই তো ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতে সময় লাগে না। এক্ষেত্রে এক চামচ টমেটোর রসের সাথে ১ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে সেই মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ভাল করে ম্যাসাজ করতে হবে। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে মুখটা। এইভাবে যদি প্রতিদিন ত্বকের পরিচর্যা করতে পারেন, তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!

১. ত্বকের বয়স কমে

আপনার বয়স কি ৩০ পেরিয়েছে? তাহলে প্রতিদিন টমেটোর রস লাগানো শুরু করুন মুখে। কারণ এই বয়সের পর থেকেই নানা কারণে ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। সেই সঙ্গে বলিরেখা প্রকাশ পাওয়ার কারণে সৌন্দর্য কমে চোখে পড়ার মতো। কিন্তু যদি টমেটোকে উদ্ধার কাজে লাগান, তাহলে ত্বকের এমন খারাপ অবস্থা হওয়ার আশঙ্কা যায় কমে। কারণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটিতে থাকা একাধিক উপকারি উপাদান ত্বকের অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে স্কিন-এর পুষ্টির ঘাটতি দূর হওয়ার কারণে ত্বক টানটান হয়ে ওঠে। ফলে বলিরেখা গায়েব হতে সময় লাগে না।

২. সূর্যের খারাপ প্রভাব থেকে বাঁচায়

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে বাড়ির বাইরে বেরোনোর আগে যদি অল্প করে টমেটোর রস মুখে লাগিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে অতি বেগুনি রশ্মির কারণে ত্বকের কোনও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে তাপ প্রবাহের কারণে ত্বক পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়। আসলে টমেটোতে থাকা লাইকোপিন নামক একটি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৩. ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়

খেয়াল করে দেখবেন স্ট্রেস এবং পরিবেশ দূষণসহ আরও নানা কারণে সিংহভাগেরই ত্বকের বারোটা বেজে যায়! সেই সঙ্গে স্কিনের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যাওয়ার কারণে সৌন্দর্য কমে চোখে পড়ার মতো। এমন পরিস্থিতিতে আপনার হারিয়ে যাওয়া সৌন্দর্যকে ফিরিয়ে আনতে কিন্তু নানাভাবে সাহায্য করতে পারে টমেটো। প্রসঙ্গত, একাধিক স্টাডিতে দেখা গেছে যে, নিয়মিত টমেটোর রস মুখে লাগালে ত্বকের ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট-এর মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত হয়ে উঠতে সময় লাগে না।

৪. ত্বকে জমে থাকা ময়লা দূর হয়

একথা নিশ্চয় জানা আছে যে, পরিবেশে উপস্থিত ডাস্ট পার্টিকেল-গুলো প্রতিনিয়ত ত্বকের ভেতর প্রবেশ করে স্কিন-এর মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে। তাই তো দিনের শেষে সবাইকেই ভাল করে মুখ ধুয়ে শুতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু সমস্যাটা হল বাজারে চলতি বেশিরভাগ ফেসওয়াশ জেল-ই এই কাজটি ঠিক মতো করে উঠতে পারে না। ফলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এমন অবস্থায় ত্বককে বাঁচাতে যদি অ্যাভোকাডো-এর সঙ্গে টমেটোর রস মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে কিন্তু দারুণ উপকার পাবেন। আসলে এই দুই প্রাকৃতিক উপাদান একদিকে যেমন ত্বকে জমে থাকা টক্সিক উপাদানগুলো বের করে দেয়। সেই সঙ্গে ত্বককে উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত করে তোলে। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে চোখে পড়ার মতো।

৫.ত্বকের স্ট্রেস কমায়

নানা কারণে স্কিন-এর টক্সিক উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস-এর মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিন-এর সৌন্দর্য কমতে থাকে। এমনটা যদি দীর্ঘ দিন ধরে হয়, তাহলে কিন্তু বিপদ। কারণ সেক্ষেত্রে অল্প বয়সেই ত্বক বুড়িয়ে যেতে শুরু করে। ফলে বয়স ৩০ এর খাতায় থাকলেও লোকের মনে হয় আপনি সিনিয়ার সিটিজেনদের কোটায় ঢুকে পড়লেন বলে! তবে মজার বিষয় কী জানেন, আপনি যদি চান, তাহলে এমন ঘটনা কিন্তু আপনার সঙ্গে নাও ঘটতে পারে। কীভাবে এমনটা সম্ভব? এক্ষেত্রে প্রতিদিন মুখে এবং হাতে-পায়ে টমাটোর রস লাগিয়ে ম্যাসাজ করতে শুরু করুন। এমনটা করলে দেখবেন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ত্বকের সৌন্দর্য বেড়ে গেছে।

জানি আজকের এই আর্টিকেল-টা পড়তে গিয়ে মাথায় কারও এসেছে যে “এতো সময় কই?” বা “আলসেমি লাগে” কিংবা “সময় নষ্ট”- টাইপ চিন্তাগুলো! অথচ ত্বকে যখন সমস্যা শুরু হয়, তখন কিন্তু হাহুতাশ করতে আমরা এক সেকেন্ড-ও সময় নেই না!! “ধাক্কা না খেলে শিক্ষা হয় না”- পর্যায়ে না গিয়ে বরং স্কিন কেয়ার-টা আগে থেকেই শুরু করে দিন।

আর যাদের টমেটো মাখলে স্কিন-এ র‍্যাশ হয় বা সুট করে না, তারা আবার জোড় করে মুখে টমেটো ডলা শুরু করে দিবেন না যেন! ঐ যে এক কথা বার বার বলি, সবার স্কিন টাইপ এক না।

তাই সঠিকভাবে ত্বকের যত্ন নিন। ভালো থাকুন।

Written By
More from Health Aide

Blood Sugar

Blood Sugar Level Ranges Understanding blood glucose level ranges can be a...
Read More